টেকনোলজিলাইফ স্টাইল

কম্পিউটারের খারাপ দিকসমূহ | Disadvantages of Computers

প্রতিদিন আমরা অনেক রকম ইলেকট্রনিক্স জিনিস ব্যবহার করি। যেমন কম্পিউটার, মোবাইল, টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ইত্যাদি। এট সত্যি যে, নিঃসন্দেহে আমরা তা থেকে উপকার অনেক উপকার পেয়ে থাকি। তাই আমরা তার অপকার কিংবা ক্ষতির দিক চিন্তা করি না। যেমন কম্পিউটারের অনেক ভাল দিক থাকলেও তার পাশাপাশি কিছু খারাপ দিক আছে। কিন্তু আমরা খারাপ দিকের কথা ততটা ভেবে দেখি না। এখানে কম্পিউটারের কিছু খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করা হল।

স্বাস্থ্যেগত ক্ষতি

দীর্ঘসময় কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে একটানা দীর্ঘসময় ব্যবহারে চোখের পেশিতে চাপ পড়ে। ফলে আমাদের চোখের ক্ষতি হয়। এছাড়াও দীর্ঘ দিন কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ঘাড় ও কোমড়ের ক্ষতি হতে পারে।

তাছাড়া মাউস ব্যবহারের ফলেও হাত ও কাধের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রতি ৩০ মিনিট ব্যবহারের পর একটু ছোট বিরতি নিয়ে পূনরায় কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত।

অপরদিকে কম্পিউটার সামগ্রী উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও কম্পিউটারের পরিত্যাক্ত যন্ত্রপাতি পরিবেশে বিষাক্ত উপাদান ছড়াতে পারে। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।

আরও পড়ুন:

বামহাতি মাউস- কি করবেন

মাউস ব্যবহারে ঝুঁকি
মাউস কম্পিউটার একসেসরিজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। এটি কম্পিউটার ব্যবহারকারী কীবোর্ডের চেয়ে প্রায় তিনগুণ ‍বেশি ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহারের সময় হাতের বিভিন্ন অংশ কাজ করে। যেমন হাতের আঙ্গুল, কব্জি, কনুই ও কাধ। . . . [বিস্তারিত ]



পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব

পরিবেশবীদের মতে কম্পিউটার তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর উৎপাদন কালে ব্যবহৃত উপাদানসামগ্রী দ্বারা পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। তাছাড়া পরিত্যাক্ত কম্পিউটার ও এর টুকিটাকি যন্ত্রপাতিগুলি পরিবেশে বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।


ব্যয়বহুলতা

কম্পিউটার মূলত একটি ব্যয়বহুল ইলেকট্রিক যন্ত্র। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি ক্রয় করা সম্ভব হয় না। আবার কখনও এর পেছনে অনেক মুলধন ব্যয় করার প্রয়োজন হয়।


বেকারত্ব

অনেক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের উচ্চ পর্যায়ের জনবল থাকে না। বড় ধরনের সমস্যা সমাধানে বাইরের লোকের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বেকারত্ব বেড়ে যায়। তাছাড়া কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক কাজ অল্প সময়ে করা যায় এতে জনবল কম প্রয়োজন হয়। ফলে কর্মসংস্থানও কমে যায়। কম্পিউটার আসার পর এটি হলো সব থেকে বড় খারাপ দিক।


হ্যাকিং আক্রমণ

বর্তমানে কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। যা কম্পিউটার ছাড়া সম্ভব হতো না। জনগণের ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার হ্যাক করে বহু মানুষের ক্ষতি সাধন করে। কম্পিউটারে থাকা গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ ডাটা চুরির মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে থাকে।


আরও পড়ুন:

কিভাবে দ্রুত টাইপ করবেন
এক বা দুই আঙ্গুলে টাইপ করলে দ্রুত করা যায় না। এটা সঠিক পদ্ধতি না। সঠিক পদ্ধতি অনুশীলন করলে ১০ আঙ্গুল দিয়ে অতি দ্রুত টাইপ করা যায়। কীবোর্ড দেখার দরকার হয় না। নির্ভুল ভাবে টাইপ করা যায়। প্রথমে আপনাকে ইংরেজি টাইপ শিখতে হবে। [ বিস্তারিত ]


অন্যান্য

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমনের কারণে কম্পিউটারে থাকা ডাটা সঠিক ভাবে কাজ করে না। কম্পিউটার খুব স্লো হয়ে যায়। ফলে জরুরি কাজে অনেক দেরি হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে।

কেউ কেউ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে সময় নষ্ট করে। এতে কাজের ক্ষতি হয়। শিশুরা ইন্টারনেট ব্যবহারে কিংবা গেইম খেলে আসক্ত হয়ে থাকে। আবার অনেকে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

সব জিনিসের সুবিধার সাথে সাথে কিছু অসুবিধাও থাকে। তবে কম্পিউটারের সুবিধাই বেশি। তাই এর খারাপ দিকসমূহ মনে রেখে, নিয়ম মেনে কাজ করলে অনেক খারাপ দিক এড়ানো সম্ভব।

কিভাবে অসুবিধার পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়

কম্পিউটার ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ কমাতে কয়েকটি সুপারিশ-

১. কম্পিউটার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ: কম্পিউটার সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই এর সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।

২. ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস ও নকশা: ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ইন্টারফেস, নেভিগেশন টুল, সফটওয়্যার, ক্ষতিকর আলোক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইত্যাদি জন্য নকশা তৈরি করা।

৩. সংকেত প্রদান ব্যবস্থা: ব্যবহারকারিকে স্বাস্থ্য সতেচনতামুলক কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ ডিভাইস সংযুক্ত করে বিভিন্ন সংকেত, তথ্য ইত্যাদির মাধ্যমে সতর্ক করা।

৪. শারীরিক ঝুঁকি মোকাবেলা: কম্পিউটার ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত সরঞ্জামের যেমন মাউস, কিবোর্ড, মনিটর ইত্যাদির স্বাস্থ্যসম্মত প্রযুক্তি প্রনয়ন। এছাড়া বহারকারীর চেয়ার, ডেস্ক ইত্যাদি স্বাস্থ্যসম্মত নকশা প্রনয়ন।

৫. পর্যাপ্ত আলো: চোখের চাপ এবং ক্লান্তি এড়াতে কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলোর নিশ্চিত করা।

৬. প্রযুক্তিগত সহায়তা: ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উদ্ভুত সমস্যার জন্য নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রদান। যেমন উক্ত বিষয়ের জন্য হেল্পলাইন বা অনলাইন ফোরাম ইত্যাদি। যাতে ব্যবহাকারী কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।

৭. সামাজিক এবং পরিবেশগত মোকাবেলা: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্বন নির্গমন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পরিত্যাক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলির পুনর্ব্যবহারের ও ধ্বংস করার মাধ্যম নেতিবাচক প্রভাবগুলিকে হ্রাস করা।

৭. অগ্নি নিরাপত্তা: কম্পিউটার তাপ উৎপন্ন করে, তাই সঠিক বায়ুচলাচল বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত গরম হওয়া প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কম্পিউটার এবং এর সহযোগী যন্ত্রপাতিগুলোকে পরিষ্কার এবং ধুলা-বালি মুক্ত রাখা।

৮. সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ: সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের মধ্যে কম্পিউটার ও এর সরঞ্জামাদি দীর্ঘ দিন সচল রাখার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি হ্রস করা।


উপসংহার

যদিও কম্পিউটার আমাদের জীবনে অনেক অসুবিধা বয়ে আনে তা ঠিক। তবে এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে এই অসুবিধাগুলি ব্যবহারের কৌশল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উপর নির্ভর করে এবং কম্পিউটার বাদ দিয়ে আমাদের চলে না। তাই আমাদের নিরুৎসাহীত হওয়ার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নাই। আমাদের যা করতে হবে তা হলো, কয়েটি বিষয়ে খেয়াল রেখে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে। যাতে এই অসুবিধার পরিমাণ কিছু কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।




সূত্র : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া।

Share on Social Media