টেকনোলজিহোম

কম্পিউটারের টুকিটাকি সমস্যা ও সমাধান | Computer Troubleshooting

কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র তাই এর সমস্যা হতেই পারে। তবে এই যন্ত্রটি খারাপ হলে আমাদের কাজের অনেক ক্ষতি হয়। তাই আমরা এর তাৎক্ষনিক সমাধান চাই। কিছু কিছু সময় এর তাৎক্ষনিক সমাধান সম্ভব হয় না। তবে কাজ চালানোর মতো উপযোগী করা যায়। কখনও কখনও টুকিটাকি সমস্যা জানা থাকলে তাৎক্ষনিক ভাবে কাজ চালানো সম্ভব হয়। এখানে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা, তার কারণ এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হল।

০১: কম্পিউটারে পাওয়ার না আসলে কি করবেন?

সম্ভাব্য কারণ –
>> বিদ্যুৎ না থাকতে পারে।
>> দেয়ালের পাওয়ার স্যুইচ বন্ধ থাকতে পারে।
>> ইউপিএস বন্ধ থাকতে পারে।
>> কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লই খারাপ হতে পারে।
>> কম্পিউটারে অফ/অন বাটন খারাপ থাকতে পারে।

যা যা করবেন:
>> দেয়ালের পাওয়ার স্যুইচ অন আছে কিনা চেক করুন এবং দেখুন বিদ্যুৎ আছে কিনা দেখুন।
>> ইউপিএস থাকলে তা অন আছে কিনা এবং তার পিছনের সংযোগ তারগুলো ঠিকভাব কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত কিনা দেখুন।
>> কম্পিউটারের সাথে পাওয়ার কেবল সংযুক্ত আছে কিনা।
>> আপনার কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের পিছনের অফ/অন স্যুইচ থাকলে সেটি অন করুন।

এবার কম্পিউটারের পাওয়ার স্যুইচ অন করুন। যদি পাওয়ার না আসে বা কম্পিউটার চালু না হয় তবে প্রাথমিক ভাবে ধরে নিতে হবে আপনার কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই ঠিক-ঠাক কাজ করছে না। সেক্ষেত্রে কোনো সার্ভিস সেন্টারের সাহায্য নিতে হবে।

০২: কম্পিউটার চালু হওয়ার শুরুতে ‘বিপ’ সাউন্ড করলে-

সম্ভাব্য কারণ –
>> র‌্যামের সমস্যা হতে পারে
>> ভিজিএ (VGA) বা গ্রাফিক্স কার্ডের সমস্যা হতে পারে
>> সিমস (Complementary metal-oxide semiconductor-CMOS-) ব্যাটারির সমস্যা হতে পারে (এই ব্যাটারির সাহায্যে কম্পিউটার বন্ধ অবস্থায় কম্পিউটার ক্লক সচল থাকে)।
>> মাদার বোর্ডের সমস্যা হতে পারে।

যা যা করবেন:
কম্পিউটার অন করার শুরুতে মাদারবোর্ড বা সিস্টেম স্পিকার বিভিন্ন কারণে এক প্রকার শব্দ করে ইউজারকে সংকেত দিয়ে থাকে। এই সাংকেতিক শব্দকে ‘বিপ’ বলা হয়। এই জন্য মাদারবোর্ডে ছোট একটি স্পিকার থাকে। এটি শুধু বিপ সাউন্ড বা সংকেত দেয়ার জন্য। এই স্পিকারে আমরা গান শুনতে পারি না। মাদারবোর্ডে সিস্টেম স্পিকার না থাকলে বিপ শোনা যাবে না।

এই ‘বিপ’ সাউন্ড বা সংকেত বায়োস এবং মাদারবোর্ড ভেদে ভিন্ন হয়।

>> সাধারণত কম্পিউটারের পাওয়ার বাটন অন করার প্রথম দিকে ১টি কিংবা ২টি বিপ সাউন্ড দিয়ে থাকে। তবে এটি ভাল লক্ষণ। অথাৎ কম্পিউটার POST (power-on self-test-কম্পিউটার চালুর শুরুতে সয়ংক্রিয় ভাবে হার্ডওয়্যার চেক করে থাকে) সম্পন্ন করা পর সব হার্ডওয়ার কিছু ঠিক থাকলে এটি হয়। এখানে কিছু করার দরকার নেই।

>> সাধারণত ৩টি বিপ সাউন্ড বা পুনরাবৃত্তি হলে বুঝতে হবে কম্পিউটারের র‌্যামের সমস্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে র‌্যাম খুলে পরিস্কার করে আবার ইন্সটল করতে হবে। তাতে কাজ না হলে ধরে নিতে হবে র‌্যাম খারাপ হয়েছে।

>> ১টি লম্বা ও ৪টি বা কখনও এর বেশি ছোট বিপ হলে ধরে নিতে হবে ডিসপ্লে কার্ডের সমস্যা। বর্তমানে ডিসপ্লে কার্ড মাদার বোর্ডের সাথে সেট করা ( বিল্টইন) থাকে। এখানে কিছু করার নাই। তবে একটি ডিসপ্লে কার্ড আলাদা ভাবে মাদারবোর্ডের ডিসপ্লে স্লটে ইন্সটল করলে এই সমস্যা সমাধান হবে। কম্পিউটারে সাধারণত র‌্যাম এবং ডিসপ্লে কার্ডের সমস্যাই বেশি হয়।

>> কখনও যদি অনবরত বিপ সাউন্ড দিতে থাকে সেক্ষেত্রে সিমস ব্যটারির সমস্য ধরা হয়। ল্যাপটপে এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়। তাছাড়া সিমস ব্যাটারির সমস্যা হলে আপনার কম্পিউটারের সময় ও তারিখ ঠিক থাকবে না। সেক্ষত্রে মাদারবোর্ডের ব্যাটারিটি (সাধারণত এই ব্যাটারির মডেল ‘২০৩২’ হয়ে থাকে) পরিবর্তন করতে পারেন।

০৩: কম্পিউটারের মনিটরে কিছু আসে না কি করবেন?

সম্ভাব্য কারণ –
>> মনিটরের পাওয়ার স্যুইচ বন্ধ থাকতে পারে
>> মনিটরের পাওয়ার ক্যাবল লুজ (আলগা) থাকতে পারে
>> মনিটর ও সিপিইউ’র ডাটা (VGA cable)ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে।
>> আপনার কম্পিউটার বন্ধ থাকতে পারে।
>> মনিটর খারাপ হতে পারে।

যা যা করবেন:
>> মনিটর সচল আছে কিনা তার মনিটরের পাওয়ার লিড জ্বলে কিনা দেখুন অথবা পাওয়ার স্যুইচ অফ/অন করে পরীক্ষা করুন।
>> মনিটরের পিছনে পাওয়ার ক্যাবল চাপ দিয়ে ভালভাবে সংযুক্ত করুন।
>> মনিটর ও সিপিইউ’র ডাটা (VGA cable) ক্যাবল সিপিইউ ও মনিটরের সাথে সঠিকভাবে সংযুক্ত কিনা পরী্ক্ষা করুন।
>> আপনার কম্পিউটার চালু আছে কিনা পরীক্ষা করুন।
>> উপরের সবকিছু ঠিক থাকলে মনিটর খারাপ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে মনিটর পরিবর্তন করতে হবে।

০৪. “Press F1 to continue”– Error message আসলে কি করবেন?


সম্ভাব্য কারণ-
১. মাদারবোর্ডের CMOS ব্যাটারি খারাপ থাকতে পারে।
২. কম্পিউটারের সময় ও তারিখ ভুল থাকতে পারে।
৩. হার্ডডিস্কের সমস্যা থাকতে পারে।
৪. অপারেটিং সিস্টেমের সমস্যা থাকতে পারে।
৫. র‌্যাম সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।

যা যা করবেন:
এটি একটি সাধারণ সমস্যা । এই সমস্যাটি আমরা প্রায়ই দেখে থাকি। এখানে ‘F1‘ এরর মেসেজটি ইউজারকে এই সংকেট দেয় যে- আপনার কম্পিউটারে কিছু সমস্যা আছে। ঠিক করুন নতু১বা কাজ চালিয়ে যান।

১. মাদারবোর্ডের ব্যাটারিটি (ব্যাটারির মডেল-CR2032) পরিবর্তন করুন।
২. F2 অথবা F10 (এটি বায়োস ভেদে পরিবর্তন হয়, সেটআপে প্রবেশের কমান্ডটি স্ক্রিনে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন) প্রেস করে বায়োস সেটআপে প্রবেশ করুন। এখান থেকে ডিজিটাল ঘড়ির মত সময় ও তারিখ ঠিক করুন এবং সেভ করে বের হয়ে আসুন।
৩. হার্ডডিস্কে সমস্যা থাকলে হার্ডডিস্কটি নতুন করে পার্টিশন করুন। একাধিক হার্ডডিস্ক থাকলে অতিরিক্ত হার্ডডিস্কটি সরিয়ে রেখে পরীক্ষা করুন।
৪. অপারেটিং সিস্টেম বা উইন্ডোজে সমস্যা হলে হার্ডডিস্ক ফরমেট করে নতুন করে উইন্ডোজ বা অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করুন।
৫. র‌্যাম খুলে র‌্যামের পিনগুলো পরিস্কার করুন। প্রয়োজনে একটি ইরেজিং রাবার দিয়ে র‌্যামের পিনগুলো ঘষে দিতে পারেন। একাধিক র‌্যাম থাকলে প্রথমে যেকোনো ১টি দিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে চেক করুন এবং কোনটি খারাপ নির্নয় করুন। তবে মনে রাখবেন আপনার র‌্যাম সম্পূর্ণ খারাপ থাকলে মনিটেরে কোনো ডিসপ্লে আসবে না।

হঠাৎ নীল স্ক্রিন (Blue Screen) আসলে কি করবেন?

এটি বুলু স্ক্রিন অফ ডেথ” (Blue Screen of Death (BSoD) নামে পরিচিত। আমরা প্রায়ই এই সমস্যার সম্মুখীন হই।

সম্ভাব্য কারণ-

>> হাঠাৎ কম্পিউটার বন্ধা হলে বা বিদ্যুৎ চলে গেলে
>> আডডেট চলমান অবস্থায় কম্পিউটার বন্ধ হলে
>> হার্ডওয়্যার সমস্যা (র‌্যম, হার্ড ডিস্ক গ্রাফিক্স কার্ড ইতাদি) থাকলে
>> কুলিং-এর সমস্যা থাকলে
>> উইন্ডোজের ফাইল খারাপ থাকতে
>> অপ্রয়োজনীয় স্টার্ট আপ ফাইল থাকলে

সম্ভাব্য সমাধান
>> হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হয়ে আবার ওপেন হলে বুলু স্ক্রিন (Blue Screen) আসতে পারে। এক্ষেত্রে পাওয়ার স্যুইচ টিপে বন্ধ করে পুনরায় চালু করুন অথবা Ctrl + Alt + Delete চেপে আপনার কম্পিউটার আবার রিস্টার্ট করুন। নরমাল মোডে ওপেন হবে।
>> আপডেট সংক্রান্ত কারণে Blue Screen স্ক্রিন আসলে পাওয়ার স্যুইচ টিপে বন্ধ করুন অথবা Ctrl + Alt + Delete টিপে কম্পিউটার আবার চালু করুন। এবার চালু হলে উইন্ডোজ রিপেয়ার অপশন আসবে। স্টেপগুলো ফলো করুন।
>> হার্ডওয়্যারের সঠিক ড্রাইভার না থাকলে এমন হতে পারে। যেমন আপনার গ্রাফিক্স কার্ডের সঠিক ড্রাইভার না থাকলেও এমন হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিভাইসের সঠিক ড্রাইভার দিতে হবে। তাছাড়া র‌্যাম ও হার্ডডিস্কের সমস্যার জন্য এ সমস্যা হতে পারে। এর জন্য প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে নির্দৃষ্ট কোন হার্ডওয়্যারের সমস্যা হয়েছে। র‌্যামের কারণে এই সমস্যা হলে র‌্যাম খুলে পিনগুলো সাবধানে পরিস্কার করুন। প্রয়োজনে একটি ইরেজিং রাবার দিয়ে পিনের উপর কয়েক বার ঘষা দিন। এভাবে পরিস্কার করে আবার লাগিয়ে দিন। হার্ডডিস্কের সমস্যা থাকলে হার্ডডিস্ক ফরমেট করে নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটল করতে হবে।
>> কুলিং ফ্যানে ময়লা জমে গেলে সেক্ষেত্রে কম্পিউটার বন্ধ করে ব্রাস ব্যবহার করে ময়লা পরিস্কার করতে পারেন। প্রয়োজনে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে সার্ভিসিং করে নিতে পারেন।
>> উইন্ডোজের ফাইল মিসিং হতে পারে। এক্ষেত্রে উইন্ডোজ নতুন করে ইন্সটল করে নেয়াই ভাল।
>> অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপস বাদ দিতে Ctrl + Alt + Delete টিপুন। Task Manager– এ প্রবেশ করুন। এবার Startup-ট্যাব থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সিলেক্ট করে ডিসএবল করে দিন।

চলবে. . .

Share on Social Media