টেকনোলজি

কম্পিউটারের যত্ন করবেন কীভাবে

অফিস-আদালত, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে কম্পিউটার ছাড়া চলে না। পেশার তাগিদে অনেকে বেশির ভাগ সময়ই কম্পিউটারে কাজ করেন। তাই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই ব্যবহারের পাশাপাশি এর যত্ন নেয়া খুব জরুরি।

সময়মত সঠিক যত্নের অভাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ দামি জিনিসপত্র ঘন ঘন নষ্ট হয়। এতে যেমন কাজের ক্ষতি হয়, তেমনি আর্থিক ক্ষতি হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করলেও এর যত্ন নেয়া উচিত। নিচে কম্পিউটারের যত্ন ও এর রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেওয়া হল:


কেন কম্পিউটারের যত্ন নেয়া দরকার?

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে কম্পিউটারের যত্ন নেওয়া উচিত।

সঠিক যত্ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ আপনার কম্পিউটার দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে। নিয়মিত পরিষ্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ ধুলো-বালি কম জমে। ফলে অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করে। ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এর পারফরম্যান্স ভাল থাকে। কম্পিউটার সিস্টেম পরিষ্কার রাখা সফ্টওয়্যার অপ্টিমাইজ করা হার্ডওয়্যার ভাল থাকার নিশ্চিতা দেয়।

আপনার কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা মূল্যবান ডেটা রয়েছে। আপনার কম্পিউটারের যত্ন নেওয়াই আপনার ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিয়মিত ফাইল ব্যাকআপ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ঘটনার থেকে আপনার কম্পিউটকে রক্ষা করতে পারে।

এটা নিশ্চিত করা বলা যায় যে, সঠিক কম্পিউটারের যত্ন পরোক্ষভাবে আপনার অর্থ বাঁচাতে পারে। আপনার কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং সমস্যাগুলিকে প্রাথমিকভাবে সমাধান করে, আপনি বড় ধরনের খরচ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষ্কার করা হার্ডওয়্যারের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।


কম্পিউটারের যত্ন

কম্পিউটারের সঠিত যত্ন নিতে নিম্নের শর্তগুলো পালন করা উচিত।

১) ত্রুটি মুক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য আর্থিং যুক্ত ৩পিন সকেট থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে।
২) আলো-বাতাস আছে এমন ঘরে কম্পিউটার স্থাপন করা।
৩) রান্না ঘরের কাছাকছে কম্পিউটার স্থাপন করা উচিত না।
৪) সিপিইউ বক্স ফ্লোরে না বসিয়ে টেবিলের উপর বসানো ভালো। এতে ধুলাবালি থেকে অনেকটা রক্ষা পায়।
৫) কম্পিউটার দেয়াল থেকে অন্তত ৮-১০ ইঞ্চি দূরে স্থাপন করতে হবে।
৬) কম্পিউটার কেসিং-এর উপর ভারি কিছু না রাখা।
৭) কম্পিউটার ঢেকে রাখা।
৮) চলন্ত অবস্থায় কম্পিউটার ঢেকে রাখা যাবে না।
৯) মনিটরে অযথা হাত, পেন্সিল, কলম বা শক্ত কোন জিনিস দিয়ে স্পর্শ না করা।
১০) মনিটরে ময়লা জমলে নরম কাগজ, কাপর বা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলা।
১১) কম্পিউটার সঠিক উপায় চালু ও বন্ধ করা।
১২) মাউস ব্যবহারের আগে মাউস প্যাড অথবা মাউস ব্যবহারের স্থানটুকু পরিস্কার করে নেয়া।
১৩) কাজ শেষে কীবোর্ড দাঁড় করিয়ে বা উল্টিয়ে (কীযুক্ত দিক নিচের দিকে) রাখা।
১৪) ১ মাসের অধিক সময় ধরে কম্পিউটার বন্ধ না রাখা।
১৫) কম্পিউটার টেবিলে পান-আহার থেকে বিরত থাকা।
১৭) কীবোর্ডের ওপর কোনো প্রকার স্প্রে না করা, প্রয়োজনে ব্রাস দিয়ে কী বোর্ড পরিস্কার করতে হবে।


কম্পিউটারের যত্ন নিতে যা যা দরকার।

কম্পিউটারের যত্ন বলতে মুলত এর হার্ডওয়্যারের পরিচর্যাকেই বুঝোয়। আপনার কম্পিউটারের এই হার্ডওয়্যার পরিষ্কারের জন্য কিছু টুকিটাকি যন্ত্রপাতি দরকার। যেমন-

আঁশবিহীন নরম কাপড়: আপনার কম্পিউটারের বাহ্যিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটারের কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, সিপিইউ বক্স ইত্যাদি মুছার জন্য এরকম একটা কাপড় হাতের কাছেই রাখবেন। প্রত্যেক বার ব্যবহারের সময় আপনার কম্পিউটার মুছে ফেলুন।

কম্প্রেসড এয়ার বা ব্লোয়ার: কম্প্রেসড এয়ার বা ব্লোয়ার হল সিপিইউ বক্সের ভিতরে ও বাহিরে ধুলা-বালি অপসারণের একটি কার্যকরী হাতিয়ার। এটি সাধারণত বাসা বাড়িতে ব্যবহার হয় না। আজকাল হ্যান্ড ব্লোয়ার পাওয়া যায়। এটিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। হাতের সাহায্যে পাঞ্জ করে বাতাস বের করা হয়। প্রয়োজনীয় স্থানে বাতাস প্রোয়োগ করে সহজেই ধুলা-বালি পরিস্কার করা যায়।

নরম ব্রিস্টেড যুক্ত ব্রাশ: ১ ইঞ্চি সাইজের নরম ব্রিস্টেড যুক্ত একটি ব্রাস ধুলো অপসারণ করতে ব্যবহার করাতে পারেন। কেসিং-এর ভিতরে ও বাহিরে কীবোর্ডের ফাকে ও মনিটরের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালি পরিস্কারের জন্য এটি খুব ভাল কাজ করে।

আইসোপ্রোপাইল লিক্যুইড বা গ্লাস ক্লিনার: আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল বা গ্লাস ক্লিনার জাতীয় স্বল্প মাত্রার ক্ষার যুক্ত লিক্যুইড দ্বারা কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ পরিস্কার করা যায়। পরিস্কারের আগে একটি কাপড়ে প্রয়োগ করে প্রায়োজনীয় স্থানে পরিস্কার করতে পারেন।

কটন বাডস: ছোট জায়গা বা যেখানে হাত বা ব্রাস পৌঁছানো কঠিন তা পরিষ্কার করার জন্য এটি খুব দরকারী। এগুলিকে ক্লিনিং লিক্যুইডে ভিজিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিসপোজেবল গ্লাভস ও ফেস মাস্ক: কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিষ্কার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে ভুলবেন না। পরিষ্কারের সময় ধুলো-বালি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এগুলো ব্যবহার করুন।

স্কুরু ডাইভার: কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার খোলা ও বন্ধ করার জন্য একটি স্টার স্কুরু ড্রাইভার দরকার।

উপরোক্ত যন্ত্রপাতিগুলো থাকলে আপনি নিজেই নিয়মিত কম্পিউটারের যত্ন নিতে পারবেন।

তবে এটা মনে রাখবেন পরিষ্কার করার আগে আপনার কম্পিউটারের পাওয়ার বন্ধ করুন এবং সকল পাওয়ার কেবল আনপ্লাগ করুন। কিন্তু আপনি যদি আপনি উপরোক্ত কাজের ব্যাপারে মোটেই অবগত না থাকেন, তবে পেশাদার লোক কিংবা কোনো সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নিন।

উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে কম্পিউটার ব্যবহার করলে আপনার কম্পিউটার ও এর আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন সচল থাকবে।কম্পিউটারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধুলাবালি। তাই কম্পিউটারকে ধুলাবালি মুক্ত রাখুন।

Share on Social Media