টেকনোলজি

কম্পিউটার স্লো কী করবেন

বিভিন্ন কারণে কম্পিউটারের গতি আস্তে আস্তে কমতে থাকে। কম্পিউটার স্লো হলে আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। এমনকি পুরানো কম্পিউটার বদলে নতুন কম্পিউটার কিনি। কিন্তু নতুন কম্পিউটারও আস্তে আস্তে স্লো হতে পারে বা হ্যাং করতে পারে।

কম্পিউটার স্লো বা হ্যাং হওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা। বিভিন্ন কারণে কম্পিউটার স্লো হতে থাকে। সেই সাথে কম্পিউটার স্লো হলে বিভিন্ন অসুবিধার সৃষ্টি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসুবিধাগুলি নিম্নে দেয়া হল-


স্লো কম্পিউটারের অসুবিধাসমূহ

কর্মক্ষমতা হ্রাস
ধীর গতির কম্পিউটার জটিল ধরনের অ্যাপ্লিকেশন চালানো, ভিডিও সম্পাদনা করা, গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করা এবং গেম খেলার মতো কাজগুলি পরিচালনা করতে খুব সমস্যা হয়। এর ফলে সামগ্রিকভাবে একজন ব্যাবহারকারীর কর্মক্ষমতা কমতে পারে,একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সুচারুভাবে সম্পাদন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উৎপাদনশীলতা হ্রাস
ধীরগতির কম্পিউটার একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। ফলে একটি কাজ সম্পূর্ণ হতে অনেক বেশি সময় নিতে পারে। এতে হতাশা বাড়ে এবং সময় নষ্ট হয়। ধীরগতির কম্পিউটার কাজকে ধীর করার পাশাপাশি রিসোর্স বা ইনপুট প্রদানের উপরও নেতিবাচ প্রভাব পরে।

কাজের চাপ বৃদ্ধি
পাবলিক সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ধীরগতির কম্পিউটার হলে কাজ সময়মত ডেলিভারি না দিতে পারার কারণে কাজের চাপ বেড়ে যায়। এতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মাল্টিটাস্কিং সমস্যা
ধীরগতির কম্পিউটারে একসাথে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন বা কাজ পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। একাধিক প্রোগ্রাম বা ব্রাউজার ট্যাব খোলার চেষ্টা করলে সিস্টেম অত্যধিক স্লোডাউন হতে পারে। ফলে ফাইল ও প্রিণ্ট শেয়ারিংয়ে যথেষ্ট বাঁধার সৃষ্টি হয়। এই সীমাবদ্ধতার ফলে একজন দক্ষ লোক কার্যকরভাবে মাল্টিটাস্ক করার ক্ষমতাকে হ্রাস করে।

সফ্টওয়্যার আপডেট সমস্যা
সফ্টওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনগুলি ক্রমাগত আপডেট হতে থাকে, অনেক সময় কাজের প্রয়োজনে অপারেটিং সিস্টেম বা কোনো এপ্লিকেশন আপডেট করার প্রয়োজন হয়। ধীরগতির কম্পিউটার হলে আপডেট করা কখনও কখনও সম্ভব হয় না। ফলে আপডেট ভার্সনে কাজ করার সুযোগ হয় না এবং কাজের মান খারাপ হয়।

হার্ডওয়্যার সমস্যা
অনেক সময় ধীরগতির কম্পিউটারে কিছু কিছু উন্নতমানের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ আপগ্রেড করা যায় না। এই সমস্যার জন্য কিছু কিছু কাজ করা সম্ভব হয় না।

এখন আসা যাক কিভাবে কম্পিউটার ফাস্ট করা যায়। তবে কম্পিউটার সব সময় ফাস্ট রাখতে কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।


কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায়সমূহ

.   অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বাদ দিন

যে সকল সফটওয়্যার দরকার নেই তা আনইনস্টল করে দিন। কখনও একটি সফটওয়্যারের একাধিক ভার্সন থাকে। যে কোনো একটি রাখুন।

.   সফটওয়্যার ইনস্টলেশনে সতর্ক থাকুন

কাস্টম সেটআপে সওফটওয়ার ইনস্টল করুন। এতে একটি সফটওয়্যারের সম্পূর্ণ অংশ ইনস্টল না করে দরকারী অংশগুলো  ইনস্টল করা যায়। ফুল সেটআপে ইনস্টল করলে অপ্রয়োজনীয় অংশ ইনস্টল হয়ে যায়। যা কম্পিউটারের পারফর্মেন্স কমিয়ে দিতে পারে। যে কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় প্রত্যেকটি স্টেপ খেয়াল রাখতে হবে। যাতে মূল সফটওয়্যারের  সাথে অন্য সফটওয়্যার ইনস্টল হয়ে না যায়।

. অপ্রয়োজনীয় টেম্প ফাইল ডিলেট করুন

কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজের সময় অনেক অপ্রয়োজনীয় ফাইল নিজে নিজেই তৈরি হয়, এই অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলোকে টেম্প ফাইল বলে। টেম্প ফাইলগুলো মাঝে মাঝে ডিলিট করে কম্পিউটারের গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন।


টেম্প ফাইল ডিলেট করতে Run এ গিয়ে temp লিখে এন্টার চাপুন এবং temp ফোল্ডারে থাকা সবগুলো ফাইল ডিলিট করুন। এইভাবে একে একে %temp%, prefetch এবং recent টাইপ করে টেম্প ফাইল গুলো ডিলেট করে দিন।

. Disk Defragment Scan Disk ব্যবহার করুনঃ

Disk Defragment হলো হার্ড ডিস্কে একট ফাইলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশ গুলোকে সুবিন্যস্ত করা। এতে ডাটা Read-Write করার গতি বাড়িয়ে দেয়। কিছু দিন পর পর  Disk Defragment করতে পারেন । Scan Disk অপশন থেকে ডিস্ক স্ক্যান করুন। এতে হার্ডডিস্কের সেক্টর ক্লিন করে। এতে Read-Write গতি ভালো থাকে।

Disk Defragment করতে কম্পিউটারের Search অপশনে Defragment and Optimize Drives টাইপ করে প্রোগ্রামটি রান করান এবং  Drive গুলো এক এক করে Defragment করুন।  

. অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের Startup ডিসেবল করুন

কম্পিউটার ওপেন করার পর রেডি হতে কিছু সময় লাগে। এর কারণ হলো কম্পিউটার ওপেন হওয়ার পর কিছু প্রোগ্রাম অটোমেটিক রান করে।  তাই স্টার্টআপ দ্রুত করার জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের Startup ডিসেবল করে দিতে হবে।

প্রোগ্রামের অটোস্টার্ট বন্ধ করতে Run এ গিয়ে লিখুন msconfig লিখে এন্টার চাপুন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো উপর রাইট মাউস ক্লিক করে  Disable করে দিন। 

. কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখুনঃ

ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের সকল ডাটা নষ্ট করতে পারে এবং কম্পিউটার স্লো করে।  তাই একটি ভালোমানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। তবে Windows 10 –এ উইন্ডোজের নিজস্ব এন্টিভাইরাস Windows Defender চালু রাখলেই চলে।

এছাড়া পোর্টেবল হার্ডডিস্ক বা পেনড্রাইভ ব্যবহারের পূর্বে স্ক্যান করে নিন। 

. Browser History এবং Cookies ডিলেট করুনঃ

যেহেতু Browser History এবং Cookies কম্পিউটারর র‌্যাম এবং Cache ব্যবহার করে। তাই এগুলো নিয়মিত ডিলিট করে কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখতে পারেন। 

এর জন্য ব্রাউজারে গিয়ে Ctrl + Shift + Delete চাপুন তারপর Clear All History থেকে Everything সিলেক্ট করে OK ক্লিক করুন।

মেমোরি কিলার প্রোগ্রাম বন্ধ করুন

কিছু কিছু সিস্টেম ফাইল, প্রোগ্রাম কম্পিউটার চলন্ত অবস্থায় রানিং থাকে। এগুলো কম্পিউটার স্লো করে।  কিবোর্ড থেকে Ctrl + Shift + Esc টিপে Task Manager এ গিয়ে চেক করুন কোন প্রোগ্রাম বেশি মেমোরি ব্যবহার করছে। সে প্রোগ্রামটি Task Manager থেকে রাইট মাউস বাটন ক্লিক করে  End Task করে বাদ দিতে পারেন।

হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করুনঃ

এর পরও যদি আপনার কম্পিউটার স্লো কাজ করে তাহলে আপনাকে হার্ডওয়্যার আপগ্রেডের কথা ভাবতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি র‌্যাম ও হার্ডডিস্ক আপগ্রেড করতে হবে। তবে HDD পরিবর্তন করে SSD ব্যবহার করতে পারেন। এটি হার্ড ডিস্কের চাইতে ৫ থেকে ১০ গুন পর্যন্ত বেশি দ্রুতু গতিতে কাজ করে।  যা মাল্টি টাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হবে।

হার্ডওয়্যার কিংবা সফটওয়্যার উভয় কারণেই কম্পিউটার স্লো হতে পারে। উপরোক্ত উপায় গুলো অনুসরণ করে পিসির স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

যাই হোক একটি ধীর গতির কম্পিউটারকে গতি বাড়ানোর জন্য যা যা করবেন-

>> সম্ভব হলে হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করুন (যেমন, আরও RAM যোগ করা বা একটি SSD দিয়ে হার্ড ড্রাইভ প্রতিস্থাপন)।

>> অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং প্রোগ্রামগুলি সরিয়ে হার্ড ড্রাইভ পরিষ্কার করুন।

>> অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার ব্যবহার করুন।

>> ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম এবং প্রসেস বন্ধ করুন।

>> প্রয়োজনে সফ্টওয়্যার, ড্রাইভার এবং অপারেটিং সিস্টেমকে সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করুন৷

>> কম্পিউটার রুমে সঠিক বায়ুচলাচল এবং এটি অতিরিক্ত গরম হচ্ছে না- এটা নিশ্চিত করুন।

>> প্রয়োজনে অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করুন৷

>> সর্বশেষ কম্পিউটারটি নতুন মডেলে আপগ্রেড করুন৷


সূত্র : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সংবাদ মিডিয়া।

Share on Social Media