টেকনোলজি

কিভাবে কম্পিউটারে দক্ষ হবেন

আমরা যে কাজই করি না কেন সবাই কাজে দক্ষ হতে চাই। কম্পিউটারের বেলায়ও তাই। তবে কম্পিউটারে দক্ষ হতে হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ধরুন, আপনি কম্পিউটারে দক্ষ হতে চান। এক্ষেত্রে শুধু গ্রাফিক্স কিংবা স্প্রেডশিটে দক্ষ হলেই চলবে না। ফান্ডামেন্টাল বিষয় সম্পর্কেও আপনার ধারণ থাকতে হবে। এতে আপনি আপনার কাজটি দক্ষতার সাথে শেষ করতে পারবেন। মোট কথা আপনার কম্পিউটারে দক্ষ হতে হলে ওয়ার্ড প্রেসেসিং ছাড়াও আপনাকে সহজ কিছু হার্ডওয়্যার ট্রাবলস্যুটিং, সফটওয়্যার ট্রাবলস্যুটিং ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। এছাড়াও কম্পিউটার সম্পর্কে আপনার সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বাংলা ইংরেজি টাইপিংয়ে দক্ষতা থাকতে হবে।

ধরুন একজন ড্রাইভার। তার শুধু ড্রাইভিংয়ে পাকা হলেই চলে না। তার গাড়ি পরিস্কার করা, চাকা বদলানো ইত্যাদি কাজও জানা থাকা দরকার। কারণ তিনি গাড়ি নিয়ে বের হলেন। পথে চাকা পাংঙ্কচার হলো। তিনি গন্তব্যে পৌছাতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: কিভাবে দ্রুত টাইপ শিখবেন?


কম্পিউটারের বেলাও তাই। আপনি একটা গ্রাফিক্সসের কাজ অতি চমৎকার ভাবে করলেন। কিন্তু হঠাৎ আপনার কম্পিউটার হ্যাং করল। এখন আপনি প্রিন্ট বা আউটপু নিতে পারছেন না। অল্পের জন্য আপনার কাজের ফলাফল পাচ্ছেন না।

এরকম অনেক ট্রাবলস্যুটিং আছে যা আপনার কাজের সাথে যুক্ত নয়। কিন্তু আপনার কাজ তার জন্য আটকে যেতে পারে। তাই আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার ও ট্রাবলস্যুটিং সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকলে আপনি দক্ষ হতে পারবেন না।

কম্পিউটারে দক্ষ হওয়ার জন্য যেসব বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত ধারনা দেয়া হল।

বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং দক্ষতা

অনেকেই মোবাইলে অনেক দ্রুত টাইপ করেন কিন্তু এটা কতটা কাজের তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। তবে কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজি টাইপ করতে পারাটা দক্ষতার পরিচয়। এটা মোটেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়, প্রাকটিসের ব্যাপার। এটার একটা পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে টাইপ শিখলে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহে ইংরেজি টাইপ শিখতে পারবেন এবং তাও আবার কীবোর্ড না দেখে। পরবর্তীতে ইংরেজি লেআউটেই বাংলা টাইপ করবেন। তার মানে কীবোর্ডের ইংরেজি কোন অক্ষরে বাংলা কোন অক্ষর তা মনে রাখলেই চলবে। এখানে ২ সপ্তাহেই বাংলা টাইপ করতে পারবেন।


অনেকে কীবোর্ড দেখে দেখে এক বা দুই আঙ্গুল দিয়ে টাইপ করে থাকেন । এটা সঠিক নিয়ম নয়। নিচের লিংকে ক্লিক করে টাইপ করার সঠিক পদ্ধতি জেনে নিতে পারেন। সঠিক নিয়মে টাইপ করা শিখতে পারেন। উক্ত পদ্ধতিতে টাইপ করা শিখলে আপনি কীবোর্ড না দেখে অনেক দ্রুত টাইপ করা শিখতে পারবেন।


অনেকে টাইপ শিখতে বিভিন্ন কোর্স করে থাকেন। আমি মনে করি একটু চেষ্টা ও ধৈর্য নিয়ে শুরু করুন আপনি দক্ষতার সাথে টাইপ করা শিখতে পারবেন। এতে অর্থ এবং সময়- দুটাই বাঁচবে।

হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত দক্ষতা

যেকোনো সময় কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ কোনো পার্টস নষ্ট হতে পারে। সেটা ঠিক করার জন্য হার্ডওয়্যার বিষয়ে সাধারণ কিছু ধারণ থাকা জরুরি। যেমন, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, গ্রাফিক্স, বেসিক ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইস ইত্যাদি সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা রাখতে হবে। এই যন্ত্রাংশগুলির কোনটি কি কাজে লাগে, এদের যত্ন নেয়া এবং সমস্যা হলে সমস্যাটি কি এবং কোন হার্ডওয়্যারের জন্য সেই সমস্যা তা চিহ্নিত করা ইত্যাদি।


ভাইরাসের বিষয়টা বাদ দেয়া যাবে না। কখনও কখনও ভাইরাস কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই কম্পিউটার কিভাবে ভাইরাসমুক্ত রাখা যায় সেটাও জানতে হবে। এসব টুকিটাকি কাজ জানা থাকলে সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার দরকার হয় না।

বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা

যেসকল অ্যাপ্লিকেশনের ওপর দক্ষতা থাকা দরকার তার মধ্যে অন্যতাম অ্যাপ্লিকেশনগুলি হলো- ডকুমেন্ট তৈরি ও স্প্রেডসিটের জন্য ’মাইক্রোসফট অফিস ‘। মাইক্রোসফট অফিসের অনেক অ্যাপ্লিকেশন থাকে, তার মধ্যে এমএস ওয়ার্ড (Microsoft Word), এমএস পাওয়ার পয়েন্ট (Microsoft PowerPoint) ও এমএস এক্সেল (Microsoft Excel) এই ৩টি। তবে এর মধ্যে এমএস ওয়ার্ডই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।

গ্রাফিক্স সংক্রান্ত কাজের জন্য ২টি সফটওয়্যার দরকার যেমন, Adobe Photoshop এবং Adobe Illustrator । এছাড়া দুই-একটি ব্রাউজার সম্পর্কে খুটিনাটি ধারণা, যেমন, গুগল ক্রোম (Google Chrome), মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox) ইত্যাদি।

প্রাথমিক অবস্থায় নিচের ভার্সনগুলো ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন যেমন মাইক্রোসফট অফিস ২০০৭ ভার্সন। Photoshop 7.0 এবং Adobe Illustrator 8.0 বা 10 ভার্সন।

ডকুমেন্ট তৈরির দক্ষতা

কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রোসেসিং বা বিভিন্ন ডকুমেন্টের কাজের মধ্যে চিঠি-পত্র, রিপোর্ট, চুক্তিপত্র, গবেষণা পত্র, স্মারকলিপি, দলিলাদি ইত্যাদি সংক্রান্ত কাজগুলি হল ডকুমেন্ট বা ফাইল। ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল যেকোনো উদ্দেশ্যেই হোক এসকল ডকুমেন্ট নিয়েই বেশি কাজ করতে হয়। তাই এসকল ডকুমেন্ট তৈরির ব্যপারে দক্ষ না হলে কাজের অগ্রগতি অসম্ভব। তাই ডকুমেন্ট তৈরিতে দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এমএস ওয়ার্ডে একটি পুনাঙ্গ ডকুমেন্ট তৈরির পদ্ধতি শিখতে এই লিংকে ক্লিক করুন : এক নজরে এমএস ওয়ার্ড।


Microsoft Word ডকুমেন্ট তৈরিতে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হয়। অবশ্য অনলাইনে Google Docs দিয়ে বিনামূল্যে ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়।


Microsoft Word হলো বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ডকুমেন্ট তৈরির একটি সফটওয়্যার। প্রায় ৮৫% মানুষ ডকুমেন্ট তৈরির কাজে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে থাকেন।

Presentation তৈরির দক্ষতা:

অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, ট্রিইনিং কিংবা ওয়ার্কশপে প্রেজেন্টেশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ওয়ার্কশপ কিংবা ট্রেনিং প্রোগ্রাম সফল ভাবে পরিচালনার জন্য প্রেজেন্টেশন জরুরি। বর্তমানে বিভিন্ন সভা-সমিতি অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ডুকুমেন্টারি বা প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা একটি সাধারণ বিষয়। তাই প্রেজেন্টেশন তৈরিতে দক্ষতা অর্জন জরুরি।

প্রেজেন্টেশন তৈরির বহুল ব্যবহৃত একটি টুল হলে Microsoft PowerPoint । তবে Google Slides দিয়েও তৈরি করা যায়।
Microsoft PowerPoint এর সাহায্যে খুব সহজেই আকর্ষণীয় প্রেসেন্টেশন তৈরি করা সম্ভব। Google Slides দিয়েও দ্রুত প্রেজেন্টেশন তৈরির করা যায়। তবে Microsoft PowerPoint দিয়ে তৈরি করাই ভাল। অফলাইনে সংশোধন ও ব্যবহার করা যায়, ইন্টারনেটের ঝামেলা থাকে না।

গ্রাফিক্স কাজের দক্ষতা

বর্তমানে সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে ম্যাগাজিন, ব্যানার পোস্টার-ফেস্টুন ইত্যাদি তৈরির প্রয়োজন পরে। এসব ছাড়া একটি অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করা যায় না। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে দক্ষতা থাকলে নিজেই একটা অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা যায়। আরেকটি বড় বিষয় হলো নিজের বুদ্ধিতে বা পছন্দ মতো কাজ করার আনন্দই আলাদা।

এই কাজের জন্য আপনাকে জানতে হবে Adobe Photoshop এবং Adobe Illustrator . অনেকেরই এই সফটওয়্যারগুলোর প্রতি ভীতি আছে। তবে এখানে ভীতির কোনো কারণ নাই। ব্যানার-ফেস্টুনের জন্য খুব বেশি জানার বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।

তবে আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চান তবে এই সফটওয়্যার গুলোর ওপর বিষদ ধারণা দরকার। বর্তমানে এই দুটি সফটওয়্যারের কাজে পারদর্শী মানুষের চাহিদা অনেক।

অনলাইন সংক্রান্ত কাজে দক্ষতা

অনলাইনে কাজ করার দক্ষতা না থাকলে আজকাল মোটেই চলবে না। যেমন ডাটা ইনপুট দেয়া, ফর্ম ফিলআপকরা, চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করা ইতাদি অহরহই প্রয়োজন হয়। তাছাড়া আজকাল সরকারি সব সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তাই জানতে হবে ব্রাউজারের খুটিনাটি। যেমন বুকমার্ক তৈরি করা, ব্রাউজারের ক্যাশ ক্লিয়ার করা, আপডেট করা ইত্যাদি। ব্রাউজারের সেটিং সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে। জানতে হবে ছবি, ভিডিও ডকুমেন্ট ইত্যাদি ডাউলোড করার সঠিক নিয়ম।

Share on Social Media