লাইফ স্টাইল

পাতার রস সারাবে ডায়াবেটিস

হাজার হাজার বছর আগে মানুষ রোগ নিরাময়ের জন্য গাছ, লতা-পাতা, ইত্যাদি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে বিভিন্ন ওষুধের ভিড়ে এ সকল ভেষজ ওষুধ এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ভেষজ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভেষজ ওষুধ দ্বারা অনেক কঠিন রোগ সারানো সম্ভব। এমনকি ভেষজ হতে পারে ডায়াবেটিসের জন্য একটি মহৌষধ। তবে ওষুধের পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণে সর্বদা সচেতন থকতে হবে। মানতে হবে বিভিন্ন নিয়ম। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে।

আয়ুর্বেদে ডায়াবেটিস নিরাময়ের অনেক ভেষজ আছে। এর মধ্যে একটি হল চিরতা (Chirota)। এর মধ্যে এমন উপাদান আছে, যা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। এমনটাই মনে করেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা।

ডায়াবেটিসের জন্য চিরতা

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন চিরতার পাতা, শিকড় ও কান্ড ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি দুর্দান্ত ওষুধ। এর পাতা নিয়মিত সেবনে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

চিরতার পাতা কীভাবে কাজ করে

চিরতা নামের এই উদ্ভিদে বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ (Amarongeton) পাওয়া যায়, যা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হিসেবে কাজ করে। ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়ম করে এ পাতা সেবন করলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্র স্বাভাবিক থাকে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার (sugar) পরিমাণ কমে যাওয়া) থেকে রক্ষা করে। এটি মেটাবলিজমকেও শক্তিশালী করে।

আরও পড়ুন: রংধনু আহার


চিরতা পুষ্টিগুণে ভরপুর

এটি শুধু ভেষজ ওষুধ তাই নয়। চিরতার আছে অনেক পুষ্টিগুণ। যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যালকালয়েড (alkaloids) বা উপক্ষার এবং গ্লাইকোসাইডের (Glycoside) মতো যৌগে সমৃদ্ধ যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। এতে পাওয়া অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এজেন্ট যা অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলিকে সুস্থ ও শক্তিশালী করে। ফলে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যায়।


চিরতা খাওয়ার নিয়ম

চিরতা পাতা বিভিন্ন রকম খাওয়া যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা এর পাতার রস করে পান করতে পারেন। অথবা শুকনা কান্ড ও পাতা ভিজানো পানি পান করতে পারেন। বর্তমানে চিরতার গুড়া পাওয়া যায়। এক চা চামচের ৪ ভাগের এক ভাগ গুড়া এক গ্লাস পানিতে ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর পান করতে পারেন। সকালে খালি পেটে পান করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এর পাতার রসও পান করা যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তুলসী পাতা

কেউ কেউ তুলসী পাতাকে ডায়াবেটিকের মহৌষধ বলে থাকেন। এটি রক্তে শর্করার স্তর সঠিক রাখে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণায় তুলসী টাইপ-২ ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।


এছাড়া সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, ত্বকের নানা রোগ ও ঘরোয়া টোটকায় তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকেন। অনেক দিনের ঠান্ডা জনিত রোগের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে তুলসী পাতার রস, মধু, আদা ইত্যাদি ব্যবহার সকলেই জনেন। তাছাড়া আয়ুর্বেদ ও ভেষজ চিকিৎসায় তুলসীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

খাওয়ার উপায়

তুলসী পাতা রস করে খাওয়া যায়। তাছাড়া গরম পানিতে তুলসীর পাতা ফুটিয়ে চায়ের মতো করে খাওয়া যায়। আজকাল বাজারে তুলসি চা পাওয়া যায়। ছোটদের পাতার রস করে খাওনো ভালো। রোগ ভেদে তুলসী রসের সাথে আদা কিংবা মধু যোগ করে পান করার কথা বলেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা।

তুলসীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিভিন্ন রকম রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে-
১. রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে;
২. মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে;
৩. মাথা ব্যাথা কমায়;
৪. লিভারের শক্তি বাড়ায়;
৫. জ্বর কমাতে সাহায্য করে;
৬. নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং গলা খুসখুসের সমস্যা কমায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরও অনেক পাতার রস সেবনের কথা শোনা যায়। যেমন- পানপাত, কারিপাতা, আমপাতা, পেয়ারাপাতা ইত্যাদি। এ সব ভেষজ সম্পর্কে প্রচলিত তথ্য শুধুমাত্র দাবি। এই দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই ধরনের চিকিৎসা, ওষুধ, খাদ্য কিংবা পরামর্শ অনুসরণ করার আগে, অনুগ্রহ করে একজন ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করা উচিত।

এটা সত্যি যে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রাকৃতিক প্রতিকার কিছুটা হলেও কার্যকর। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে, প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলি এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবার জন্য যথেষ্ঠ নয় কিংবা পেশাদারের চিকিৎসা বা পরামর্শের বিকল্প হিসেবে ভাবা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের পাশাপাশি জীবনধারার পদ্ধতির ধরিবর্তন, প্রাকৃতিক প্রতিকার পদ্ধতি ও অন্যান্য উপায় রয়েছে যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। যেমন-

ডায়েট: ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ফল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং গোটা শস্যসহ খাবার গ্রহণ করা। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয় খাওয়া সীমিত করা ইত্যাদি।

নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তাই প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২ঘন্টা হালকা বা ভারি ব্যায়াম দরকার। যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো ইত্যাদি।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রাকে বৃদ্ধি করতে পারে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হওেয়া দারকার। যেমন ধ্যান বা যোগব্যায়াম করা, শখের সাথে জড়িত এমন কাজ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া ইত্যাদি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে যা সামগ্রিক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক হতে পারে।

ওজন কমানো: সঠিক ওজন বজায় রাখা বা অতিরিক্ত ওজন হ্রাস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট সঠিক ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।


সূত্র: ইন্টারনেট ও বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া।

Share on Social Media