গল্পবিনোদন

মোরগ ও শিয়াল

লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুরা গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি থেকে নানা ধরনের শিক্ষা পেয়ে থাকে। এগুলি শিশুদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এখানে শিশুদের জন্য কয়েকটি উপদেশমূলক গল্প তুলে ধরা হল। গল্পগুলি শিশুদের উপদেশের পাশাপাশি আনন্দ যোগাবে ।

[ দ্বিতীয় গল্প – বন্য বিড়ালের গল্প]



ছোট একটি গ্রামে এক বুড়ি বাস করত। তার একটি মোরগ ছিল। মোরগটি খুব বুদ্ধিমান এবং চালাক ছিল। একদিন একটা শিয়াল খাবারের খোঁজে বের হল। পথে শেয়ালটি দেখল গাছের ডালে একটা মোরগ। শিয়ালের খুব লোভ হল, মোরগটি মজা করে খাবে। কিন্তু কি করে? শিয়াল ভাবল তবে তো মোরগটিকে নিচে নামাতে হবে।

এই ভেবে সে মোরগটিকে বলল, “তুমি ভাই উপরে কি করছ, নিচে নেমে আসো। আমরা দুজনে একসাথে গল্প করি।” এসব বলে মোরগকে বোকা বানাতে চাইল।

মোরগ বলল, “না ভাই আমি নামতে পারব না। কারণ আমি পশুদের থেকে দূরে থাকি। আমি তোমার কাছে যেতে পারব না। আমার ভয় করে তুমি যদি আমাকে ধরে খাও।”

শেয়াল বলল, আরে না! তুমি জানো না? আজ বনের সকল পশুরা সুন্দর একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবাই মিলেমিশে থাকবে। একে অপরের কোনো ক্ষতি করবে না। তাই এখন আর কাউকে ভয় পাবার কারণ নাই। আমাকেও না। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসো আমরা একসাথে বসে গল্প করি।”

আরও পড়ুন: শিশুদের উপদেশমূলক গল্প— সহজ কথার গল্প


মোরগ শেয়ালের কথা চুপ করে শুনছিল। শিয়াল তাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে এটা মোরগ বুঝতে পারল।

মোরগ শিয়ালকে বলল, তাই নাকি! এটা তো খুব ভালো কথা! আমরা এখন একসাথে থাকতে পারব। একথা বলে মোরগ বনের দিকে তাকিয়ে রেইল।”

শিয়াল ভাবতে লাগলো মোরগ বনের ভিতর কি দেখছে। তখন মোরগকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি বনের দিকে তাকিয়ে আছো কেন? ওদিকে কী দেখছিলে?

মোরগ একটু চালাকি করে বলল, কিছু না, তবে মনে হল কিছু বন্য কুকুর এদিকে আসছে। এতক্ষণ ওদেরকেই দেখছিলাম।”

একথা শুনে শিয়াল আতঙ্কিত হল। ভয়ে পালানোর চেষ্টা করল। মোরগ জিজ্ঞেস করলো, যাচ্ছ কেন ভাই? আর একটু অপেক্ষা করো। ওরা এলেই আমরা গল্প করবো।

শিয়াল বলল, না ভই! না! আমি এখানে থাকতে পারব না। এক্ষনি আমার এখান থেকে পালাতে হবে। আমাকে পেলে ওরা খেয়ে ফেলবে। তাই আমি চলে যাচ্ছি।

মোরগ বলল, তুমিই তো বলেছিলে বনের সব পশু একসাথে থাকবে। কেউ কাউকে হত্যা করবে না। তাহলে ভয় পাচ্ছ কেন?”

শেয়াল বলল, আসলে এই খবরটা এখনো কুকুরদের জানানো হয়নি। তোমাকে বলে আমি ওদের কাছেই যেতাম। এই বলে শিয়াল ছুটে পালাল এবং মোরগটি তার জীবন রক্ষা করল।

সূত্র : ইন্টারনেট।


আরও পড়ুন: গল্প শুনে শিক্ষা পাই

বন্য বিড়ালের গল্প

একবার এক বন্য বিড়াল পাখির বাসা খুঁজে পেল। সে ধারণ করল- বাসায় ডিম বা বাচ্চা আছে, খেতে ভাল হবে। সে গাছে উঠল, দেখল- বাসায় কিছুই নেই, কারণ এটি কেবলমাত্র বানানো হয়েছে। তাই সে বলল, “আমি অপেক্ষা করব!” কারণ সে একজন ধৈর্যশীল বিড়াল সে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করল, তারপর সে আবার গাছে উল। বাসার মধ্যে উঁকি দিল। সেখানে দুটি সুন্দর নীল ডিম, মসৃণ এবং চকচকে।

বিড়ালটি বলল, “ডিমগুলি ভাল হতে পারে,তরুণ পাখিগুলিও ভাল। আমি অপেক্ষা করব.”

তাই সে অপেক্ষা করতে লাগল। ততক্ষণে সে ইঁদুর, ছুটো ধরে খেল। সময় কেটে গল। কিছু দিন ঘুমিয়ে কাটাল। সময় কাটানোর জন্য যা করা উচিত তা করল।

এভাবে আরও এক সপ্তাহ কেটে গেল, সে আবার গাছে উঠল এবং পাখির বাসায় উঁকি দিল। এবার ডিম হল পাঁচটি। বিড়াল আবার বলল, “ডিম আরও বাড়তে পারে, তরুণ পাখিগুলি খুব ভালো। আমি আর কিছুদিন অপেক্ষা করব!”

তাই সে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করল এবং তারপর আবার দেখতে পেল- আহ! সেখানে পাঁচটি ছোট ফুটফুটে বাচ্চা। যাদের চোখ কালো বড় বড় এবং লম্বা ঘাড় এবং হলুদ ঠোট। বার বার হা করছে।

তারপরে বিড়ালটি ডালে বসল এবং তার লম্বা জিভ দিযে নিজের নাক চাটল কারণ সে খুব খুশি ছিল। ধৈর্য্য ধরার ফল সে হাতে-নাতে প্রমাণ পেল।

কিন্তু যখন সে আবার তরুণ পাখিদের দিকে তাকালো, কোনটি আগে খাবে। সে দেখতে পেল যে তারা খুব পাতলা, – ওহ, খুব, খুব পাতলা! খুব রোগা। বিড়ালটি তার জীবনে এত পাতলা শিকার ছিল না।

সে নিজেকে বলল, “আমি যদি আর মাত্র কয়েকদিন অপেক্ষা করি, তাহলে বাচ্চাগুলি মোটা হয়ে যাবে। পাখিগুলিও খেতে ভালো হতে পারে। মোটা পাখি খেতে অনেক ভালো। আমি অপেক্ষা করব!”

তাই সে অপেক্ষা করলো এবং সে দেখল বাবা-পাখি সারাদিন নীড়ে কীট-পতঙ্গ নিয়ে আসছে,আর বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে। এটা দেখে সে বলল, “আহা! তারা দ্রুত মোটা হবে! তারা শীঘ্রই মোটা হবে আর আমি তাদের খেতে পারব। আহা! ধৈর্য ধরতে পারাটা কি ভালো।”

অবশেষে, একদিন সে ভাবল, “নিশ্চয়ই, এখন তারা যথেষ্ট মোটা হয়েছে! আর একদিনও অপেক্ষা করা যাবে না। আহা! তার এখন খেতে কতই না মজা হবে!”

তাই সে তাড়াতাড়ি নাক চাটতে চাটতে গাছে উঠতে থাকে। যখন সে বাসার কাছে পৌঁছে বাসার দিকে তাকাল,তখন বাসা খালি!!

তারপরে বিড়ালটি ডালে বসে ভাবতে থাকে আর বলল, “আচ্ছা, আমি যত ভয়ঙ্কর ও অকৃতজ্ঞ প্রাণী দেখেছি, এই পাখিগুলি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, নিকৃষ্ট এবং সবচেয়ে অকৃতজ্ঞ! মি-আ-উ-ওও!!!!”

সবসময় অপেক্ষা করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?

সূত্র: এই গল্পটি ”লরা ই. রিচার্ড -এর দ্যা পেসেন্ট ক্যাট” গল্প থেকে নেয়া।

Share on Social Media